শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের অর্থনীতি, পর্যটন ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্রুত চালুর নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে থার্ড টার্মিনালের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চালু করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় প্রয়োজন।
সরকারের লক্ষ্য হলো—যাত্রীসেবায় ভোগান্তি কমানো, ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় গতি আনা এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট সুবিধা বাড়ানো।
তৃতীয় টার্মিনালের গুরুত্ব
বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীচাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরোনো টার্মিনালগুলো দিয়ে বাড়তি যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছিল। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে—
-
বছরে কয়েক কোটি অতিরিক্ত যাত্রী সেবা দেওয়া সম্ভব হবে
-
আধুনিক বোর্ডিং ব্রিজ ও স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম যুক্ত হবে
-
আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা বাড়বে
-
কার্গো পরিবহন ব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পর্যটন খাত, হোটেল শিল্প, পরিবহন ব্যবসা ও রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর। আধুনিক স্ক্যানার, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা এবং স্মার্ট ইমিগ্রেশন সিস্টেম স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যাত্রীদের দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ও ই-গেট ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
উপসংহার
শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতারই অংশ। এটি শুধু একটি বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালু হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্ট সবার।
.png)
Social Plugin