কৃষির মেরুদণ্ড শক্ত হলে অর্থনীতির মেরুদণ্ড শক্ত হবে: মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ

কৃষির মেরুদণ্ড শক্ত হলে অর্থনীতির মেরুদণ্ড শক্ত হবে মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজচিন্তক ও নীতিনির্ধারণ বিশ্লেষক মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, “কৃষির মেরুদণ্ড শক্ত হলে অর্থনীতির মেরুদণ্ডও শক্ত হবে। কারণ কৃষিই আমাদের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থচক্রের প্রধান ভিত্তি।

কৃষিকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক উন্নয়ন

এক আলোচনা সভায় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে শুধু খাদ্যনিরাপত্তাই নিশ্চিত হয় না, বরং শিল্প, পরিবহন, বিপণনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষকের হাতে অর্থ প্রবাহ বাড়লে গ্রামীণ বাজার সচল হয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতি গতি পায়।

তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে হলে কৃষিকে আধুনিক, লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তর করতে হবে।”

প্রযুক্তি ও গবেষণায় জোর

মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত বীজ, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান এখন সময়ের দাবি।

তার মতে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে, যাতে গবেষণার সুফল সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে।

ন্যায্যমূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনা

তিনি আরও বলেন, কৃষক যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো জরুরি। মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ, শীতলীকরণ গুদাম বৃদ্ধি এবং সরাসরি কৃষক-ভোক্তা সংযোগ জোরদারের প্রস্তাব দেন তিনি।

“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে অর্থনীতিও প্রাণ পাবে,”—যোগ করেন তিনি।

কৃষিনির্ভর রপ্তানি সম্ভাবনা

রশীদ বলেন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সুযোগ রয়েছে। ফল, সবজি, মাছ ও দুগ্ধজাত পণ্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানি করতে পারলে দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে।

সরকারের প্রতি আহ্বান

কৃষিখাতে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, ফসল বীমা চালু এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, কৃষিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণই পারে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।

সবশেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের কৃষিক্ষেত্রে। কৃষির উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।”