পিলখানায় নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জাতির ইতিহাসে বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদর দপ্তর-এ আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বহু চৌকস সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। প্রতিবছর এ দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এবারও সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পিলখানার শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তারা রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পিলখানার ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ছিল একটি কঠিন পরীক্ষা। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সরকার তাদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না—রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও বাহিনীর সক্ষমতা ও কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় প্রার্থনা করা হয়।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্মরণ ও সম্মান জানানো তাদের জন্য সান্ত্বনার। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন পিলখানার শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়।
পিলখানা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায়। তবে রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান, আইনগত প্রক্রিয়া ও বাহিনীর পুনর্গঠনের মাধ্যমে আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতি আবারও অঙ্গীকার করে—দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

Social Plugin