যশোরে আফিল ব্রিকসে ভয়াবহ আগুন, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

যশোরে আফিল ব্রিকসে ভয়াবহ আগুন, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

যশোরের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত Afil Bricks কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কারখানার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 কীভাবে আগুনের সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ কারখানার কাঁচামাল সংরক্ষণাগার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা চুল্লির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া সুনির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একাধিক ইউনিট। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, দাহ্য উপকরণ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে।

 ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ

কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিপুল পরিমাণ প্রস্তুত ইট, কাঁচামাল এবং কিছু যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির বিষয়।

 শ্রমিক ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার সময় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভাতে সহায়তা করার চেষ্টা করেন। আগুনের কালো ধোঁয়া দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্ত কমিটি গঠন

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

 উপসংহার

যশোরের শিল্পখাতে এই অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও আর্থিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।