যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল: ওকলাহোমা ও কানসাসে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার একর ভূমি ভস্মীভূত

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল: ওকলাহোমা ও কানসাসে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার একর ভূমি ভস্মীভূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সমভূমি (Southern Plains) অঞ্চলে এক ভয়াবহ দাবানল তাণ্ডব চালাচ্ছে। 'রেঞ্জার রোড ফায়ার' নামে পরিচিত এই আগুন ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্য থেকে দ্রুত প্রতিবেশী কানসাসে ছড়িয়ে পড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার একর বনভূমি ও তৃণভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।


দ্রুত বিস্তার ও বর্তমান পরিস্থিতি

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওকলাহোমার বিভার কাউন্টিতে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড বাতাস এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওকলাহোমা ফরেস্ট্রি সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি বিশাল এলাকা গ্রাস করে নেয়।


ক্ষয়ক্ষতি ও সরিয়ে নেওয়া

দাবানলের কারণে বিভার কাউন্টিসহ আশেপাশের বেশ কিছু এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং খামার পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে অন্তত চারজন ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন। ওকলাহোমার গভর্নর কেভিন স্টিট ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কাউন্টিগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

প্রতিকূল আবহাওয়া

আগুনের শিখা এবং ঘন ধোঁয়ার কারণে আকাশপথের উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ বেশি হওয়ায় বিমান থেকে পানি বা অগ্নি-নির্বাপক রাসায়নিক ছিটানো সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা একে 'মেগা-ফায়ার' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা শিকাগো শহরের সমান আয়তনের এলাকাকে পুড়িয়ে ফেলেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওকলাহোমা এবং কানসাসের সীমান্ত এলাকায় রেড ফ্ল্যাগ ওয়ার্নিং (Red Flag Warning) জারি রয়েছে। বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তবে বাতাসের গতি না কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত বিস্তারিত তথ্য (Additional Details)

বাংলায়:

  • আগুনের কারণ: প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রচণ্ড বাতাসের কারণে বিদ্যুতের লাইনে ঘর্ষণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ এখনো এটি নিশ্চিত করেনি।

  • গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি: ওকলাহোমা এবং কানসাসের এই অঞ্চলটি মূলত পশুপালনের জন্য বিখ্যাত। দাবানলে কয়েক হাজার গবাদি পশু মারা গেছে এবং বিশাল চারণভূমি নষ্ট হওয়ায় খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন।

  • পরিবেশগত প্রভাব: ঘন ধোঁয়ার কারণে পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর বাতাসের মান (Air Quality) বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধোঁয়ার কুয়াশা টেক্সাস পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে।

  • উদ্ধার তৎপরতা: ন্যাশনাল গার্ড (National Guard) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুর্গতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।