চাঁদাবাজি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা আইজিপির
দেশব্যাপী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া যাবে না।”
সম্প্রতি পুলিশ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় দেশের সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং থানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আইজিপি এ নির্দেশনা দেন। সভায় তিনি বলেন, চাঁদাবাজি শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়, এটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা
আইজিপি বলেন, যেখানেই চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন—
-
নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে
-
চিহ্নিত চাঁদাবাজদের তালিকা হালনাগাদ করতে
-
ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে
-
অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা রুজু ও গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে
তিনি আরও বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা
সভায় আইজিপি উল্লেখ করেন, বাজার, টার্মিনাল, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বেশি দেখা যায়। এসব এলাকায় বিশেষ টহল ও মোবাইল টিম সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
আইজিপি জোর দিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ কেউ জোর করে আদায় করবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
প্রযুক্তির ব্যবহার ও মনিটরিং জোরদার
চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সিসিটিভি নজরদারি, হটলাইন নম্বর এবং অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে বলেও জানানো হয়। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কঠোর বার্তার তাৎপর্য
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইজিপির এই কঠোর বার্তা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে গতি আনবে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। নতুন এই নির্দেশনার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সর্বোপরি, চাঁদাবাজি দমনে পুলিশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং কঠোর অবস্থান দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
.png)
Social Plugin