৬ মাসের মধ্যে ‘গ্রিন সিটি’ ও ‘ক্লিন সিটি’ গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৬ মাসের মধ্যে ‘গ্রিন সিটি’ ও ‘ক্লিন সিটি’ গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খুলনা সিটির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর 

দেশের নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা মহানগরীকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ‘গ্রিন সিটি’ ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগর গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। খুলনাকে একটি আধুনিক, সবুজ ও দূষণমুক্ত শহরে রূপান্তর করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


যেসব উদ্যোগ নেওয়া হবে

প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, ৬ মাসের কর্মপরিকল্পনার আওতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে—

১. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ:

  • প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন স্থাপন

  • নিয়মিত ময়লা অপসারণে বিশেষ টিম

  • প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা চালু

২. সবুজায়ন কর্মসূচি:

  • প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে বৃক্ষরোপণ

  • খালি জায়গায় ছোট পার্ক ও উন্মুক্ত সবুজ এলাকা তৈরি

  • স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণ অভিযান

৩. ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন:

  • নালা-নর্দমা পরিষ্কার অভিযান

  • পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন

  • জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি প্রকল্প গ্রহণ

৪. জনসচেতনতা বৃদ্ধি:

  • মাইকিং ও প্রচারাভিযান

  • সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্তকরণ

  • পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান

প্রশাসক বলেন, শুধু সিটি করপোরেশন একা কাজ করলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বিশেষ করে ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

টেকসই নগর গড়ার লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, খুলনাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে থাকবে পরিষ্কার রাস্তা, সবুজ পরিবেশ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

নগরবাসীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনা সত্যিকার অর্থেই একটি মডেল ‘গ্রিন সিটি’ ও ‘ক্লিন সিটি’তে পরিণত হবে।