নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী Dasho Tshering Tobgay
নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
দুই দেশই দক্ষিণ এশিয়ার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। ভুটান ও Bangladesh-এর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও সহযোগিতার স্মারক হিসেবে সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বাণিজ্য
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য ছিল জলবিদ্যুৎ। পাহাড়ি দেশ ভুটান জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, আর বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজছে। উভয় নেতা সীমান্তপারের বিদ্যুৎ বাণিজ্য, গ্রিড সংযোগ এবং ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা (আঞ্চলিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে) নিয়ে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন।
বাণিজ্য ও সংযোগ
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং স্থলবন্দর ও ট্রানজিট সুবিধা উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক সড়ক ও রেল সংযোগ জোরদার হলে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন
উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে স্কলারশিপ বিনিময়, স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের কথাও উঠে আসে। ভুটানের পরিবেশবান্ধব পর্যটন মডেল ও বাংলাদেশের সমুদ্র-নদীভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে যৌথ কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন
হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকি—দুই দেশই এ চ্যালেঞ্জে আক্রান্ত। তাই সবুজ জ্বালানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অর্থায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে একমত হন নেতারা।
যৌথ বিবৃতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়
বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করে নির্দিষ্ট খাতে সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং জ্বালানি-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে বাস্তব অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে।
.png)
Social Plugin