মধ্যপ্রাচ্যে ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এবার ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত একটি ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাকের এরবিল (Erbil) অঞ্চলে থাকা ইতালীয় সেনাদের ঘাঁটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানে। তবে এতে কোনো ইতালীয় সেনা হতাহত হয়নি। 

কীভাবে হামলাটি ঘটে

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে ঘাঁটিটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। পরে ইতালীয় সামরিক সূত্র জানায়, এটি সম্ভবত একটি ড্রোন হামলা ছিল যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানে। হামলায় একটি লজিস্টিক যানবাহন ধ্বংস হয়েছে এবং কিছু অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। 

হামলার সময় ঘাঁটির সৈন্যরা সতর্কবার্তা পেয়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে সেখানে অবস্থানরত সব সেনা নিরাপদ রয়েছে। (The Wall 

ঘাঁটিতে ইতালীয় সেনাদের ভূমিকা

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এই ঘাঁটিতে প্রায় ৩০০ ইতালীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা মূলত কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ইতালি ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে তাদের সেনা সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে এনেছে

বৃহত্তর সংঘাতের প্রেক্ষাপট

এই হামলাকে অনেক বিশ্লেষক মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহত্তর সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ও তাদের সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। (

এর আগে কুয়েতে ইতালীয় সেনাদের উপস্থিতি থাকা একটি বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়, যাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইতালীয় সেনারা অক্ষত ছিলেন।

ইতালির প্রতিক্রিয়া

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে ইতালি আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে। (Reuters)

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিও আরও বেশি হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ইতালি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ইতোমধ্যে তাদের সেনাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।