খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬ উদ্বোধন: গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা

 

খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬ উদ্বোধন: গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার ঘোষিত ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় উপস্থিত থেকে নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষরোপণ করেন, যা পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঐতিহাসিক সাহাপাড়া খালের পুনর্জাগরণ

সাহাপাড়া খালটির রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে ঝুড়ি ও কোদাল হাতে নিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে প্রায় ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর আবারও সেই ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কর্মসংস্থান ও পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, এই কর্মসূচির আওতায় শ্রমনির্ভর পদ্ধতিতে খাল খনন করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে শহরমুখী মানুষের চাপ কমবে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সম্ভাব্য মরুকরণ রোধেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল, নালা ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হবে। কৃষিজমিতে পানির সহজলভ্যতা বাড়বে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে জলাধার সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই কর্মসূচি।

সব মিলিয়ে ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’কে দেশের টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ পুনর্জাগরণের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।