ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বক্তব্য রাখলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বক্তব্য রাখলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জেলার একমাত্র বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ অত্যধিক। শয্যা সংখ্যা ও চিকিৎসক-নার্সের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেবা প্রদানে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জরুরি বিভাগ, প্রসূতি ও শিশু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ঘাটতি

হাসপাতালের পুরোনো ভবন, পরীক্ষাগারের সীমিত সক্ষমতা এবং ওষুধের সরবরাহে ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো সংস্কার ও নতুন সরঞ্জাম সংযোজন জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রোগী-স্বজনদের অভিযোগ

পরিদর্শনকালে কয়েকজন রোগী ও স্বজন চিকিৎসা পেতে বিলম্ব, টেস্ট রিপোর্ট পেতে সময় লাগা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তদারকি জোরদার এবং সেবার মান উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি

এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

পরিদর্শন শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”