মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এ ইরানের ভয়ানক ড্রোন হামলা, পাল্টা পদক্ষেপে উত্তেজনা বৃদ্ধি

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এ ইরানের ভয়ানক ড্রোন হামলা, পাল্টা পদক্ষেপে উত্তেজনা বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln (CVN-72)-কে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে ভয়ানক ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

হামলার ঘটনা

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর ও Strait of Hormuz সংলগ্ন এলাকায় টহলরত অবস্থায় মার্কিন রণতরী USS Abraham Lincoln-এর দিকে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়। এসব ড্রোনের বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক ও দূরপাল্লার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রণতরীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়। তবে কয়েকটি ড্রোন বিপজ্জনকভাবে রণতরীর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

যুদ্ধজাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

USS Abraham Lincoln-এ থাকা উন্নত রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় করা হয়। যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান ও এসকর্ট ডেস্ট্রয়ারগুলোও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান,

“আমাদের বাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”

কৌশলগত পিছু হটা

ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবাহী রণতরীটিকে ওই এলাকা থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি “পলায়ন” নয় বরং কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন।

মার্কিন বাহিনী দাবি করছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নতুন করে প্রতিরক্ষা অবস্থান নিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার আশঙ্কা মোকাবিলা করা যায়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার না করলেও দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জবাব দিতে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত এবং প্রয়োজনে তারা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগর ও Strait of Hormuz বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এখানে কোনো ধরনের সংঘাত শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

ঘটনার পর মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক মহলেও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলার অভিযোগ প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।