‘নগদ’-এর মালিকানায় চোখ ব্যারিস্টার আরমানের: নতুন বিতর্কে আর্থিক খাত

 ‘নগদ’-এর মালিকানায় চোখ ব্যারিস্টার আরমানের: নতুন বিতর্কে আর্থিক খাত

ঢাকা: দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদ–এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছেন ব্যারিস্টার আরমান, যিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কাঠামোয় অংশীদারিত্ব বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ‘নগদ’-এর শেয়ার হোল্ডিং, পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই ব্যারিস্টার আরমানের পক্ষ থেকে মালিকানা কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়ার খবর সামনে আসে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

মালিকানা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

‘নগদ’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর মালিকানা ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডাক বিভাগের সঙ্গে অংশীদারিত্ব, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা এবং চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে অতীতে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি বৃহৎ আর্থিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নগদ’-এর মালিকানা কাঠামো স্বচ্ছ ও আইনসম্মত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ব্যারিস্টার আরমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, তিনি আইনি ও আর্থিক কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনভাবে গঠন করতে আগ্রহী। তার লক্ষ্য হলো, মালিকানা কাঠামোকে পরিষ্কার ও বিনিয়োগবান্ধব করা।

আইনি ও নীতিগত দিক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, এমএফএস প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নির্দিষ্ট শর্ত ও অনুমোদন প্রয়োজন। মালিকানা পরিবর্তন বা শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন অপরিহার্য। ফলে ব্যারিস্টার আরমান যদি মালিকানায় অংশ নিতে চান, তবে তাকে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তা অবশ্যই স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বাজারে প্রভাব

বর্তমানে দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাতে ‘নগদ’ একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। লক্ষাধিক এজেন্ট ও কোটি গ্রাহকের ওপর নির্ভরশীল এই প্ল্যাটফর্মের মালিকানা পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাজারে নানা জল্পনা তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মালিকানা পুনর্গঠন হলে তা বিনিয়োগ, সেবার মান এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে গ্রাহক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আরমান বা ‘নগদ’-এর বর্তমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শিগগিরই বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলন বা লিখিত বিবৃতি আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, ‘নগদ’-এর মালিকানা ঘিরে ব্যারিস্টার আরমানের আগ্রহ আর্থিক খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান না জানা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনাই প্রধান আলোচ্য হয়ে থাকবে।