ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে পশ্চিমা শক্তি
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও জোরদার করছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। বিশেষ করে তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং লেনদেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তেহরানের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জ্বালানি খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইরানের প্রবেশাধিকার সীমিত করার প্রচেষ্টাও আরও জোরদার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে দুর্বল করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে তেহরান দাবি করেছে, বিদেশি চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির অর্থনীতি টিকে আছে এবং বিকল্প বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা বাড়ছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কূটনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার পথ উন্মুক্ত না হলে আগামী মাসগুলোতে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
.png)
Social Plugin