সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন তেল আসায় জ্বালানি সংকট কাটার আশা

 

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন তেল আসায় জ্বালানি সংকট কাটার আশা

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) বাংলাদেশে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এই বিশাল তেলবাহী জাহাজের আগমনে দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফিরেছে এবং পূর্বাঞ্চলীয় রিফাইনারি কার্যক্রম আবারও পূর্ণমাত্রায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ে তেলবাহী জাহাজ পৌঁছাতে পারছিল না। এর ফলে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রায় স্থবির অবস্থায় চলে যায় এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে আসে। 

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানিয়েছে, “এমটি নিনেমিয়া” নামের জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা করে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়। জাহাজটিতে প্রায় ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল রয়েছে, যা দ্রুত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে খালাস করা হবে। 

ইস্টার্ন রিফাইনারির কর্মকর্তারা জানান, তেল খালাস সম্পন্ন হলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের উৎপাদন আবার স্বাভাবিক হবে। এতে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে এবং সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানি নিশ্চিত করতে পারা বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য। কারণ জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও কৃষি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারত। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের বার্ষিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯২ শতাংশই আমদানিনির্ভর। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ভবিষ্যতের জন্য বড় আকারের জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। 

এদিকে জানা গেছে, আরও একটি ১ লাখ টনের তেলবাহী জাহাজ শিগগিরই বাংলাদেশে আসতে পারে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।